প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 23, 2025 ইং
ইলিশ রক্ষা হোক বৈশ্বিক আন্দোলন

Hilsa conservation should be a global cause
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ইলিশ কেবল একটি মাছ নয়, এটি বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ; তাই ডলফিন রক্ষার মতো ইলিশ সংরক্ষণও বৈশ্বিক আন্দোলনের অংশ হওয়া উচিত। তিনি জানান, ইলিশের প্রজনন ও অভিবাসনপথে যেসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ফোরামের আয়োজনে দশম দ্বিবার্ষিক মৎস্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, দেশে মাছের উৎপাদন বাড়লেও খাদ্য নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, কারণ নিরাপদ না হলে উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো অর্থ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, মাছ শুধু পেট ভরানোর খাদ্য নয়, বরং চোখ, হাড় ও মেধা বিকাশে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা বাঙালির মেধা বিকাশেও ভূমিকা রেখেছে। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পূর্ণ সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পদ ব্যবহার হচ্ছে এবং সেখানেও আর্টিসনাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের কার্যক্রম, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সোনার ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত আহরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, ২২৩টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের মধ্যে প্রায় ৭০টিতে সোনার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ওভারফিশিং বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় মৎস্য নীতিমালা হালনাগাদ ও আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা ক্ষতিকর মাছ ধরার গিয়ার ও ইলেকট্রিক শক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, এসব পদ্ধতি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই সঙ্গে মৎস্যজীবীদের প্রণোদনায় বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় অনেক সময় তারা নিয়ম ভাঙতে বাধ্য হন। নদীর নাব্যতা হ্রাস, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রভাবে ইলিশের প্রজনন ও অভিবাসন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD